ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানি বন্দীতে নেই রান্না, জীবন বাঁচাতে শুকনা খাবারই সম্বল

জি. এম মোকতারুল ইসলাম
২ বছর আগে
পানি বন্দীতে নেই রান্না, জীবন বাঁচাতে শুকনা খাবারই সম্বল
টানা বৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনসহ খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজারখানেক মানুষ। ভেসে গেছে শতাধিক মাছের ঘের, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। সুন্দরবনেরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) কয়রার তেঁতুলতলার চর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের বাইরে কয়রা নদীর চরে তিন শতাধিক পরিবার বাস করে। চরের বসতির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কয়রা নদীর আরেক পাড়ে সুন্দরবন। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে গ্রামটি। ওপারের সুন্দরবনের মধ্যেও জোয়ারের পানি থইথই করছে।

কয়রা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুল বান্না বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় সুন্দরবন উপকূলে ২৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমছে বলে জানান তিনি।

বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জোয়ারের সময় পানিতে তিন দিন ধরে প্লাবিত হচ্ছে কয়রার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলার চর, শেখের গ্রাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাথরখালী, বাগালী ইউনিয়নের শেওড়া গুচ্ছগ্রাম, মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ী, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর কয়রা ও খুঁটিঘাটা গ্রামের কিছু অংশ। এসব এলাকার বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। তবে ভাটার সময় পানি নেমে যাওয়ায় লোকজন বাড়িতেই থাকছেন।

আমেনা বেগম বলেন, ‘আমাগে থাকবার মতো আর কোনো জায়গা নাই, রান্নাঘরের সব পানিতে চলে গেছে। জ্বালানি সব ভেসে গেছে। ভিটের ওপর জোয়ার-ভাটা খেলছে। কয়েক দিন ধরে কোনো রান্না নেই। চিড়া-মুড়ি খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নির্মল কুমার বলেন- জোয়ারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি বেড়েছে সুন্দরবনের নদ-নদীগুলোয়। পানিতে বনের অধিকাংশ এলাকা ডুবে যাচ্ছে। বন্য প্রাণীর আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় বনের মধ্যে টহল ফাঁড়িগুলোর উঁচু পুকুরপাড়ে হরিণের পালকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। তবে এখনো বন্য প্রাণীর ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের প্রাণীগুলো এই প্রকৃতির সঙ্গে অভ্যস্ত। অতিরিক্ত উচ্চতার জোয়ারের কারণে বনের অভ্যন্তরে পানি কিছুটা বাড়লেও ভাটার সময় নেমে যাচ্ছে। বনের অভ্যন্তরে উঁচু টিলা আছে। জোয়ারের সময় বন্য প্রাণীরা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়। যেহেতু ভাটার সময় পানি নেমে যাচ্ছে, তাই জোয়ারে বন্য প্রাণীদের কিছু সমস্যা হলেও বড় ধরনের ক্ষতি হবে না বলেই ধারণা তাঁর।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলায় দুটি পোল্ডারে পাউবোর ১৫৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়লে এসব বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকায় লোনাপানি প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় লোকজনও প্রস্তুত রয়েছেন। গত দুই দিন নদীতে জোয়ারের সময় ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা। কয়েকটি স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছেন


কমেন্ট বক্স